​পরে তিনি এলিযার গা হইতে পড়িয়া যাওয়া চাদরখানি তুলিয়া নিলেন এবং জলে আঘাত করিয়া বলিলেন, ‘এলিযার ঈশ্বর সদাপ্রভু কোথায়?’ তিনি যখন জলে আঘাত করিলেন, জল এইদিক-ওইদিক দু’ভাগ হইয়া গেল এবং ইলীশা পার হইয়া গেলেন। (২ রাজাবলি ২:১৪)

​অগ্নিরথে করে এলিযাকে স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার পর, ইলীশায় নিজেকে জর্ডান নদীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। এটি একটি বাধা ছিল, কিন্তু যে ঈশ্বর তাঁকে ডেকেছিলেন তাঁর চেয়ে এই বাধা বড় ছিল না। তিনি নদীর দিকে তাকিয়ে জাগতিক কোনো সমাধান বেছে নিতে পারতেন। তিনি কোনো নৌকার খোঁজ করতে পারতেন বা সাঁতার কেটে পার হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন। এর পরিবর্তে, ঈশ্বর তাঁর অন্তরে যা দিয়েছিলেন তার ওপর নির্ভর করে তিনি কাজ করা বেছে নিয়েছিলেন। তিনি প্রভুর নাম ঘোষণা করেছিলেন এবং ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করেছিলেন।

​লক্ষ করুন যে ইলীশায়ের কথায় কোনো সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা ছিল না। সেগুলি ছিল বিশ্বাসের কথা। তিনি জানতেন যে ঈশ্বর এলিয়র মধ্য দিয়ে কাজ করেছিলেন, সেই একই ঈশ্বর এখন তাঁর মধ্য দিয়ে কাজ করছেন। তাঁর আত্মবিশ্বাস তাঁর নিজের ক্ষমতার ওপর ছিল না, বরং ঈশ্বরের শক্তির ওপর ছিল। প্রতিটি বিশ্বাসীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। যখন কোনো চ্যালেঞ্জ আসে, তখন আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ভয় বা সন্দেহের হওয়া উচিত নয়, বরং বিশ্বাসের হওয়া উচিত।

​আমাদের মধ্যে অনেকেই জীবনে নিজেদের “জর্ডান” নদীর সম্মুখীন হই। সেগুলি আর্থিক অসুবিধা, পারিবারিক পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ বা সেবাকার্যের চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিতে পারে। প্রশ্ন এটি নয় যে বাধা আছে কি না; প্রশ্ন হল আপনার আত্মবিশ্বাস কোথায় স্থাপিত। যদি আপনার বিশ্বাস নিজের ওপর থাকে, তবে আপনি সীমাবদ্ধ থাকবেন। কিন্তু যদি আপনার আত্মবিশ্বাস ঈশ্বরের ওপর থাকে, তবে আপনি দেখতে পাবেন যে কোনো বাধাই তাঁর শক্তির চেয়ে বড় নয়।

​আজ, জীবনকে কেবল জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে অস্বীকার করুন। মনে রাখবেন যে যীশুর রাজত্ব এখন আপনার জীবনে সক্রিয়। তিনি আপনাকে ডেকেছেন, সজ্জিত করেছেন এবং ক্ষমতায়ন করেছেন।

​প্রার্থনা:
​প্রিয় পিতা, আমাকে নিজের শক্তির বদলে তোমার শক্তির ওপর বিশ্বাস করতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ। আমি আমার সামনের বাধাগুলি দেখে ভীত হতে অস্বীকার করি। আমি বিশ্বাসের সাথে চলি, কারণ আমি জানি যে তুমিই আমার সামর্থ্য এবং আমার শক্তি। আমি যীশুর নামে বিজয়ীর বেশে আমার সামনের প্রতিটি জর্ডান পার হই। আমেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *