“আর যে বীজ উত্তম ভূমিতে পড়িল, সে সেই ব্যক্তি, যে বাক্য শুনিয়া এবং বুঝিয়া ; আর সে ফলবান হইয়া থাকে, কেহ একশত গুণ, কেহ ষাট গুণ, কেহ ত্রিশ গুণ ফল উৎপন্ন করিয়া থাকে।” (মথি ১৩:২৩)

প্রত্যেক বিশ্বাসী ফলপ্রসূ হতে চায়, কিন্তু ফলপ্রসূতা কখনও আকস্মিকভাবে আসে না। বপনকারীর দৃষ্টান্তে প্রভু যীশু দেখিয়েছেন যে ফসলের পরিমাণ নির্ভর করে মাটির অবস্থার উপর। বীজ একই, কিন্তু ফল ভিন্ন হয়, কারণ ঈশ্বরের বাক্য কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তার উপর সবকিছু নির্ভর করে। ঈশ্বরের বাক্যের মধ্যে সফলতা, বিজয়, প্রজ্ঞা এবং আত্মিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই নিহিত আছে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি আমাদের হৃদয়কে এমনভাবে প্রস্তুত করছি যাতে তা সঠিকভাবে সেই বাক্য গ্রহণ করতে পারে?

ঈশ্বরের বাক্য কেবল তথ্য নয়; এটি জীবন। আপনি যখন নিয়মিতভাবে তা শ্রবন করেন , অধ্যয়ন করেন এবং ধ্যান করেন, তখন তা আপনার চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তন করতে শুরু করে এবং আপনার চরিত্রকে গঠন করে। যেমন একজন কৃষক তার ক্ষেতকে আগাছা থেকে রক্ষা করে, তেমনি আপনাকেও আপনার হৃদয়কে বিভ্রান্তি, ভুল প্রভাব এবং অবিশ্বাস থেকে রক্ষা করতে হবে, যা আপনার মধ্যে বপন করা বাক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

প্রভু যীশু তাঁর রাজ্যকে সরিষার দানার সঙ্গেও তুলনা করেছেন (দ্রষ্টব্য: মথি ১৩:৩১)। শুরুতে তা খুব ছোট মনে হলেও, পরে তা বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পায়। আপনি যখন ধারাবাহিকভাবে ঈশ্বরের বাক্য আপনার আত্মায় বপন করেন, তখন কী ঘটতে পারে তা কখনও হালকাভাবে নেবেন না। শাস্ত্রের একটি ছোট আলোকপ্রাপ্তিও কোনো বড় সমস্যার সমাধান হতে পারে, প্রজ্ঞার উৎস হতে পারে, কিংবা আপনার জীবনে ঈশ্বরের মহান কাজের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
ঈশ্বরের বাক্যকে আপনার দৈনন্দিন জীবনের অগ্রাধিকার করুন। এর প্রতি মনোযোগ দিন, এটিকে সুরক্ষিত রাখুন এবং এর অনুসারে কাজ করুন।

আগামীকালের যে ফসল আপনি দেখতে চান, তা নির্ভর করে আজ আপনি কোন বীজকে যত্নসহকারে লালন করছেন তার উপর।

প্রার্থনা:
প্রিয় পিতা, আপনার বাক্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, যা জীবন, প্রজ্ঞা এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করে। আমার হৃদয় আপনার বাক্যের জন্য উত্তম ভূমি। আমি বিশ্বাস ও উপলব্ধির সঙ্গে তা গ্রহণ করি, এবং তা আমার জীবনে প্রচুর ফল উৎপন্ন করে। যীশুর নামে প্রার্থনা করি। আমেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *