দানিয়েল সভাপতিদের ও শাসনকর্তাদের চেয়ে বেশি সম্মান পেয়েছিলেন, কারণ তাঁর মধ্যে এক উৎকর্ষতাসম্পন্ন আত্মা ছিল। – দানিয়েল ৬:৩
উৎকর্ষতা মহত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আমরা যখন বাইবেলে এমন মানুষদের জীবন দেখি, যারা বড় প্রভাব ফেলেছিলেন, তখন বুঝতে পারি যে তাঁদের মহত্ত্ব শুধু তাঁদের পদ বা অবস্থানের কারণে ছিল না। তাঁদের মধ্যে যে গুণ ও ক্ষমতা ছিল, তার সঙ্গেই তাঁদের মহত্ত্ব জড়িত ছিল।
দায়ূদ একজন মহান মানুষ ছিলেন। তিনি তাঁর ছেলে শলোমনকে জ্ঞান সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে একজন মানুষের ভিতরের জীবনের গুণই ঠিক করে দেয়, সে জীবনে কতটা করতে পারবে। শলোমন এই শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং জ্ঞানকে তাঁর জীবনের প্রধান বিষয় করেছিলেন।
তুমি বড় কোনো পদে থাকতে পারো, কিন্তু তোমার চরিত্র ভালো নাও হতে পারে। সত্যিকারের মহত্ত্ব শুধু তুমি কী পেয়েছ বা কোন পদে আছ, তার উপর নির্ভর করে না; বরং তুমি কেমন মানুষ হয়ে উঠেছ, তার উপর নির্ভর করে।
এই কারণেই উৎকর্ষতা প্রথমে তোমার ভিতরে গড়ে তুলতে হবে। পরমেশ্বরের কাছে আরও বেশি প্রভাব বা সুযোগ চাওয়ার আগে, তাঁকে তোমার চরিত্র গড়ে তুলতে দাও। আরও বড় দায়িত্ব চাওয়ার আগে, তোমার হাতে এখন যে দায়িত্ব আছে, সেটাই ভালোভাবে পালন করতে শেখো। মানুষের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার ইচ্ছা করার আগে, এমন একজন মানুষ হয়ে ওঠো যার মূল্য স্বীকৃতি ছাড়াই স্পষ্ট বোঝা যায়।
উৎকর্ষতা মানে সাধারণ মানের চেয়ে আরও ভালো হওয়া। এর মানে হলো আগের চেয়ে আরও ভালো, আরও জ্ঞানী, আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আরও মূল্যবান হয়ে ওঠা। এটা তোমার চারপাশের সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার বিষয় নয়; বরং তুমি যখন আরও বেড়ে উঠতে পারো, তখন নিজেকে নিচু পর্যায়ে আটকে না রাখার বিষয়। তুমি যখন ভিতর থেকে বেড়ে উঠবে, তখন তোমার ভিতরের উৎকর্ষতা ধীরে ধীরে তোমার জীবনে প্রকাশ পাবে।
প্রার্থনা:
প্রিয় পিতা, তুমি আমাকে যে মানুষ হতে ডেকেছ, সেই মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠা ও নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষমতা দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমি কৃতজ্ঞ যে সত্যিকারের মহত্ত্ব ভিতর থেকেই শুরু হয় এবং তোমার বাক্য আমাকে উৎকর্ষতাসম্পন্ন চরিত্র গড়ে তুলতে শেখায়। আমি সচেতনভাবে উৎকর্ষতার দিকে এগিয়ে চলি এবং তুমি আমার মধ্যে যে মহত্ত্ব রেখেছ, তা যেন আমার জীবনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে তোমার মহিমান্বিত নাম গৌরবান্বিত হোক, প্রভু যীশুর নামে। আমেন।