”কারণ যা হারাইয়া গিয়াছিল, মানবপুত্র তাহা-ই খুঁজিতে ও উদ্ধার করিতে আসিয়াছেন।” (লূক ১৯:১০)
ঈশ্বরের প্রতিটি কাজই সুনির্দিষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রভু যীশু এই পৃথিবীতে লক্ষ্যহীনভাবে আসেননি—তিনি এসেছিলেন এক মহান উদ্দেশ্য নিয়ে। তিনি আসিয়াছিলেন যেন আমরা প্রাচুর্যময় জীবন লাভ করিতে সক্ষম হই (দ্রষ্টব্য: যোহন ১০:১০), শয়তানের সমস্ত কাজ ধ্বংস করিতে (দ্রষ্টব্য: ১ যোহন ৩:৮), হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যদের খুঁজিতে ও উদ্ধার করিতে (দ্রষ্টব্য: লূক ১৯:১০), এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, পিতা ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করিতে (দ্রষ্টব্য: যোহন ৬:৩৮)। ঠিক একইভাবে, আপনার জীবনও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। আপনি এক স্বর্গীয় উদ্দেশ্য নিয়ে এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন।
একজন বিশ্বাসী হিসেবে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে পারেন, তা হলো—ঈশ্বর কেন আপনাকে এখানে প্রেরণ করেছেন, সেই কারণটি খুঁজে বের করা। অনেকেই জীবনের প্রকৃত দায়িত্ব বা উদ্দেশ্য না বুঝেই বছরের পর বছর শুধু বেঁচে থাকেন। কিন্তু যখন জীবনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন জীবন এক নতুন দিশা ও অর্থ খুঁজে পায়। পলের ন্যায় , যাঁকে ঈশ্বর নিজে আহ্বান ও নিযুক্ত করেছিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যে আপনারও পালন করার মতো একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
প্রত্যেক খ্রিস্টানুরাগী জীবনের উদ্দেশ্যের মূলে রয়েছে একটি পরম সত্য: আপনি ঈশ্বরের মহিমার জন্য জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনার জীবন যেন তাঁকে সমাদর করে, তাঁর প্রতিরূপ প্রতিফলিত করে এবং প্রতিদিন তাঁর সান্নিধ্যে পথ চলে। এই সত্য যখন আপনার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যাবে, তখন আপনার জীবনের সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং অগ্রাধিকারগুলো বদলে যেতে শুরু করবে।
তাই জীবনকে হালকাভাবে বা অবহেলায় কাটাবেন না। আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কী, তা জানতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন এবং পূর্ণ হৃদয়ে তা অনুসরণের চেষ্টা করুন। আপনার জীবনকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যেন তা অর্থপূর্ণ হয়; আর আপনার মধ্য দিয়েই ঈশ্বর এই পৃথিবীর বুকে তাঁর মহিমা প্রকাশ করতে চান। হালেলূইয়া!
প্রার্থনা:
হে পরম দয়ালু পিতা, এক মহান উদ্দেশ্য নিয়ে আমাকে সৃষ্টি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনার ইচ্ছামতো পথ চলতে এবং আপনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন , তা পূরণ করতে মনস্থির করেছি। আমার জীবন যেন আপনার জন্য মহিমা ও গৌরব বয়ে আনে। যীশুর নামে প্রার্থনা করি। আমেন।