যেখানে কোনো দর্শন নেই, সেখানে লোকেরা উচ্ছৃঙ্খল হইয়া থাকে ; কিন্তু যিনি বিধি ব্যবস্থা পালন করিয়া থাকে , সে ধন্য। (হিতোপদেশ ২৯:১৮)
ঈশ্বর আপনাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য সৃষ্টি করেননি। প্রতিটি বিশ্বাসীকে ব্যক্তিগত আরাম এবং অস্থায়ী কিছু অর্জনের চেয়ে বৃহত্তর কোনো কিছুর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। দর্শন জীবনকে দিকনির্দেশনা দেয়। এটি একজন মানুষকে চ্যালেঞ্জ সহ্য করতে, বাধা অতিক্রম করতে এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল মনে হলেও সমুখ পানে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে।
ঈশ্বর যখনই কোনো দর্শন প্রদান করে করেন, তা সাধারণত মানুষের সামর্থ্যের চেয়ে বড় হয়। আপনি যদি সম্পূর্ণ নিজের শক্তিতেই তা অর্জন করতে পারতেন, তবে সেখানে বিশ্বাসের কোনো প্রয়োজন হতো না। এই কারণেই ঈশ্বরের দর্শন প্রায়শই আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য বলয়ের (comfort zones) বাইরে প্রসারিত করে। এটি আমাদের তাঁর উপর নির্ভর করতে এবং তাঁর প্রজ্ঞায় বিশ্বাস করতে পরিচালিত করে। সুতরাং, আমাদের নিজেদের সবসময় যে প্রশ্নটি করা উচিত তা “আমি কি এটি করতে পারব?” নয়, বরং “কে আমাকে আহ্বান করেছেন?”
অনেক মানুষ তাদের জীবনের জন্য ঈশ্বরের উদ্দেশ্য বিবেচনা না করেই সাফল্যের পেছনে ছুটে চলে। ঈশ্বর আমাদের উন্নতিতে আনন্দিত হন ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত সাফল্য কখনোই তাঁর দর্শনের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। কেবল ব্যক্তিগত লাভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জীবন সবসময়ই অসম্পূর্ণ মনে হবে। স্থায়ী তৃপ্তি তখনই আসে যখন আমাদের জীবন ঈশ্বরের চিরন্তন উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ঈশ্বরের দর্শনকে আপনার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে বড় হতে দিন। আপনি যখন নিজেকে তাঁর দর্শনের সাথে যুক্ত করবেন, তখন আপনার জীবন তাঁর শক্তি, অনুগ্রহ এবং বিশ্বস্ততার এক জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে উঠবে।
প্রার্থনা:
পরম পিতা, আমার জীবনে উদ্দেশ্য এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাকে কেবল আমার নিজের পরিকল্পনার ওপর নয়, বরং আপনার দর্শনের প্রতি মনোনিবেশ করতে সাহায্য করুন। আমি আপনার ইচ্ছার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করছি এবং যীশুর নামে আমার মাধ্যমে মহান কাজ সম্পন্ন করার জন্য আপনার ওপর ভরসা রাখছি। আমেন।