ধন্য তাহারা, যাহারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধিত ও তৃষ্ণার্ত: কারণ তাহারা তৃপ্ত হইবে। (মথি ৫:৬)
জীবনে মানুষ অনেক কিছুর পেছনে দৌড়ায় । কেউ সাফল্য খোঁজে, কেউবা নিরাপত্তা, স্বীকৃতি বা বিষয়সম্পত্তি। তবুও প্রভু যীশু শিখিয়েছেন যে, সত্যিকার অর্থে তারাই ধন্য যারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধিত এবং তৃষ্ণার্ত। এই ধরণের আকাঙ্ক্ষা ঈশ্বরের আশীর্বাদ চাওয়ার চাইতেও বড় কিছু; এটি হলো তাঁর হৃদয়কে জানার, তাঁর পথে চলার এবং প্রতিটি পরিস্থিতিতে তাঁর ইচ্ছাকে ধারণ করার আকাঙ্ক্ষা।
ধার্মিকতা শুধুমাত্র সঠিক আচরণের চেয়েও বেশি কিছু। এটি হল ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে নিজেকে সমর্পিত করা এবং তাঁর ইচ্ছাকে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হতে দেওয়া। যখন একজন বিশ্বাসী ঈশ্বরের ইচ্ছার বাইরে পা বাড়ায়, তখন ভয় এবং অনিশ্চয়তা প্রায়শই তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু আপনি যখন তাঁর সাথে যুক্ত থাকেন, তখন আপনার আত্মায় আত্মবিশ্বাস এবং শান্তি পূর্ণ হয়, কারণ আপনি জানেন যে আপনি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে তিনি আপনাকে দেখতে চান।
অনেক প্রার্থনাই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর নিবদ্ধ থাকে। ঈশ্বর অবশ্যই আমাদের সেই সমস্ত প্রয়োজনের বিষয়ে যত্নশীল, কিন্তু তিনি আমাদের প্রথমেই তাঁর রাজ্য অন্বেষণ করার জন্য আহ্বান জানান। আপনার ধার্মিকতার ক্ষুধা যত বৃদ্ধি পাবে, আপনার প্রার্থনাগুলোও তত বেশি উদ্দেশ্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপনি আতঙ্ক বা ভয়ের জায়গা থেকে প্রার্থনা করা বন্ধ করে বিশ্বাসের জায়গা থেকে প্রার্থনা করা শুরু করবেন, এবং তাঁর বিশ্বস্ততার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধন্যবাদের সাথে সুনির্দিষ্ট অনুরোধগুলো জানাতে থাকবেন।
প্রতিদিন ঈশ্বরের ধার্মিকতার জন্য আকাঙ্ক্ষা গড়ে তুলুন। আপনি যখন এমনটা করবেন, তখন দেখতে পাবেন যে তিনি কেবল আপনার আত্মাকেই তৃপ্ত করেন না, বরং আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, শান্তি এবং আশীর্বাদও বয়ে আনেন।
প্রার্থনা:
পরম পিতা, আপনার ধার্মিকতার জন্য আমার ভেতরে আরও গভীর ক্ষুধা তৈরি করতে শেখানোর জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি স্বীকার করি যে, আমার হৃদয় আমার সমস্ত ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার উর্ধ্বে কেবল আপনার ইচ্ছাকেই আকাঙ্ক্ষা করে। আমি প্রথমেই আপনার রাজ্যের অন্বেষণ করি এবং বিশ্বাস করি যে আপনি আপনার নিখুঁত পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার জীবনের প্রতিটি অংশকে সুশৃঙ্খল করবেন। যীশুর নামে প্রার্থনা করি। আমেন।